Logo
প্রিন্টের তারিখ: 05 June 2026 | প্রকাশের তারিখ: Jun 6, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ওসমানীনগরে বনফুলকে জরিমানার নেপথ্যে ‘আপা’ ডাক নাকি বাসি মিষ্টি? মুখ খুললেন ইউএনও

ওসমানীনগরে বনফুলকে জরিমানার নেপথ্যে ‘আপা’ ডাক নাকি বাসি মিষ্টি? মুখ খুললেন ইউএনও
  • ​ওসমানীনগরে বনফুলকে জরিমানার নেপথ্যে ‘আপা’ ডাক নাকি বাসি মিষ্টি? মুখ খুললেন ইউএনও

    ​সিলেট ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বিপণন প্রতিষ্ঠান 'বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি'র শোরুমে মোবাইল কোর্টের অভিযান এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শোরুমের এক কর্মচারীকে ‘আপা’ ডাকার কারণে ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে এই জরিমানা করেছেন—এমন একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে এই অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

    ​ছড়িয়ে পড়া সেই অভিযোগ

    ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মে। বনফুলের তাজপুর শোরুমের কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, সেদিন ছদ্মবেশে ক্রেতা হিসেবে আসা ওসমানীনগরের ইউএনও মুনমুন নাহার আশাকে তিনি ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তার অভিযোগ, এই সম্বোধনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট ডেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    ​সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও’র ব্যাখ্যা: আসল ঘটনা কী?

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ইউএনও মুনমুন নাহার আশা। সেখানে তিনি ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন।

    ​ইউএনও জানান, কাউকে ‘আপা’ ডাকা কোনো অপরাধ নয় এবং এর জন্য জরিমানা করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আসল ঘটনা হলো—ভোক্তা অধিকার ও খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিতে বাসি-পচা মিষ্টি রাখা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে খাদ্য সামগ্রী বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”

    ​যা বলছে বনফুল কর্তৃপক্ষ

    শুধু প্রশাসনের পক্ষ থেকেই নয়, বনফুলের তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তারা জানিয়েছেন, 'আপা' ডাকার কারণে নয়, বরং মিষ্টির গুণগত মান ও বাসি মিষ্টি রাখার দায়েই এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছিল।

    ​সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Dainik Sylhet Time 24
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF